February 25, 2024

একটি নারীর পুনর্জন্ম – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

পাহাড়ঘেরা সুন্দর এক জায়গা মেহুলডেরা। রবি সেখানে একটা বাড়ি কেনে। রবির বন্ধু অতনু ট্রেনে করে যেদিন মেহুলডেরায় আসে সেদিন তার সাথে এক সন্ন্যাসীনী এবং তার অনেক সাঙ্গপাঙ্গরাও মেহুলডেরার বেদান্ত আশ্রমে আসে। তাদের মধ্যে একজন অতীব সুন্দর রমনীকে দুই বন্ধুর খুব চোখে লেগে যায়। কন্যার নাম দীধিতি। চরম সংসার নিরাসক্ত এক সাধিকা আরেকজন নাস্তিক৷ তাদের নিয়েই গল্প এগিয়ে চলে ডালপালা মেলে৷

উপন্যাসটি বিষয় বিবেচনায় বেশ দারুণ। একজন নাস্তিক, কর্মে বিশ্বাসী মানুষ অপর একজন ধার্মিক মানুষকে পরিবর্তন করতে চায়৷ সেই মানুষটির তো পরিবর্তন হয়ই তবে যতোটুকু চিন্তায় আনা যায় তার চেয়েও বেশি। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে এই ছোট্ট প্লটের উপন্যাসটি পাঠকদের মস্তিষ্কে যে ছোটখাটো ঝড়ও বইয়ে দিতে পারে তা বলা যায়। কেন কিসে মানুষের পরিবর্তন হয়? কেনই বা সময়ের পরিবর্তনে মত ঠুনকো হয়ে ওঠে? যা হবার ছিলো তা হলেই বা কি ক্ষতি হতো, না হয়েই বা কি উপকার হয়েছে?

উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সম্পর্কে, তাদের দোষগুণের সম্বন্ধে পাঠক ভাবতে বাধ্য৷ এরপর সেই ভাবনা নিজের মধ্যে নিজেকে নিয়ে পরিব্যাপ্ত হতে থাকবে৷ এরপর যে যার নিজের দর্শনের মতানুসারে বিষয়টিকে দেখবে। তবে যাই হোক কড়া একটা অনুভূতি হবে এটা বলাই যায়।

প্রিয় লাইন :
১. হিন্দুদের পরমব্রহ্মাও নিরাকার ঈশ্বর। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা বুঝবে না কিংবা কল্পনায় ঠিক করতে পারবে না বলে একটা না-একটা দেবদেবীর পুজো হয়।
২. যে-কোনও মানুষের জীবনেই একটা করে গল্প থাকে।
৩. বাঙালিরা যেখানেই যায়, মাছ খেতে চায়।
৪. দীধিতি মৃদু গলায় বলল, আপনার এই যে নাস্তিকতার তীব্রতা, তারও একটা গুণ আছে। নিশ্চয়ই দেখবেন, এইভাবে মুক্তি দিতে দিতে আপনি হঠাৎ একদিন বিশ্বাসের দরজায় পৌঁছে গেছেন। তখন আপনার বিশ্বাসও এই রকমই তীব্র হবে।
৫. সব মানুষই সুন্দর। যে দেখছে তার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর অনেকটা নির্ভর করে।
৬. নাস্তিকদের নিয়তি হচ্ছে একাকিত্ব! নাস্তিকরা কাউকেই আঁকড়ে ধরতে পারে না। তারা নিজেকেই খুঁজে বেড়ায়।

উপন্যাসটি আমার নিজের বেশ দারুণ লেগেছে৷

একটি নারীর পুনর্জন্ম৷
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *