February 27, 2024

ইসলামি ব্যাংকব্যবস্থার শুভংকরের ফাঁকি

  • বইঃ ইসলামি ব্যাংকব্যবস্থার শুভংকরের ফাঁকি
  • লেখকঃ মোহাইমিন পাটোয়ারী
  • প্রকাশনঃ ঐতিহ্য
  • মুদ্রিত মূল্যঃ ২২০

লেখক কে নিয়ে কিছু কথাঃ

ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থার শুভংকরের ফাঁকি লেখকের ৩য় বই। এর আগে ব্যাংকব্যবস্থার ও টাকার গোপন রহস্য এবং সুদ হারাম কর্জে হাসানা সমাধান বই দুটি লিখেছেন যা পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বইয়ের নামকরণঃ

ইসলামি ব্যাংকের সুদ মুক্ত নীতির আড়ালে যে ফাঁকি অতি সূক্ষ্ণভাবে জড়িয়ে রয়েছে তার প্রেক্ষাপটেই বইটির নামকরণ করা হয়েছে বলে আমার মনে হয় ।
যেহেতু বইটির নাম নিয়ে কিছু পাঠক আপত্তি জানিয়েছেন তাই নামটি পরবর্তীতে পরিবর্তনের বিষয়টি লেখকের বিবেচনাধীন রয়েছে ।

ভাষাশৈলীঃ

খুব সহজ ও সরল ভাষায় লেখক বইটি ফুটিয়ে তুলেছেন। কোন কঠিন শব্দের প্রয়োগ করা হয় নি যা এই বইটির বিশেষ গুণ।

বিষয়বস্তুঃ

ইসলামি ব্যাকের নীতিমালার বৈরিতা।
অন্যান্য বানিজ্যিক ব্যাংকের মতই ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত। সুদ ধর্মীয় ও ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর। ইসলামি ব্যাংক কীভাবে সুদ মুক্ত লেনদেন করতে পারে এসব বিভিন্ন সমস্যায় চিহ্নিত করে সমাধান বাতলে দিয়েছেন বইটিতে ।

সংক্ষিপ্ত আকারে বইটিঃ

লেখক বইয়ের প্রথমেই ইসলামি ব্যাংকের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। কীভাবে কালের বর্ধমানে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি দেখিয়েছেন মুসলিম বিশ্বে যখন ব্যাংক গড়ে উঠে নি তখনও মুসলিমদের আর্থিক অবস্থা অন্যান্যদের থেকে ভালো ছিলো। তিনি বলেছেন ইসলামি ব্যাংক মানেই ইসলামের উন্নতি নয় বরং প্রচলিত বানিজ্যিক ব্যাংকের মতোই এটাও একটা সুদি কারবার। ইসলামি ব্যাংক যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে এবং নিজস্ব তারল্য সংরক্ষণে ও ব্যাংকের প্রয়োজনে নিজেই সুদে ঋন নিয়ে থাকেন তাহলে এটা কীভাবে সুদমুক্ত হয়। ব্যাংক যেহেতু একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রাহককে প্রদান করে পরবতী তে দ্বিগুণ ভাবে ফেরত নেন এবং ঝুঁকি বহন করে না সেহেতু এই লেনদেন গুলো সুদি ব্যাংকের মধ্যেই পরে।

ইসলামি ব্যাংক

পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নেই বরং শরীয়াহ বোর্ডের অনেক সদস্যই সুদি ব্যাংকের সাথে জড়িত। লেখক কিছু উদ্ধৃতি দিয়ে বুঝিয়েছেন সুদ ৫%হোক বা ২০%। সুদ সুদই হবে অথাৎ হারাম। তিনি হালাল পতিতালয়ের উদাহরণ দিয়েছেন। নিজের প্রবত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যেমন এক / পাঁচ দিনের জন্য বিয়ে করা হালাল নয় তেমনি রং চং বা বাহানা করে ইসলামি ফ্লেভার মিশিয়ে সুদ খাওয়াও হালাল নয়। লেখক উক্ত বইয়ে সমস্যার পাশাপাশি কিছু সমাধান দিয়েছেন।

১ সমবায় গড়ে তোলা ।
২ মুদারাবা ও মুশারাকা পদ্ধতি অনুসরণ ।
৩ গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি।
৪ সুষ্ঠু নীতিমালা প্রনয়ণ ।
৫ কর্জে হাসানার প্রয়োগ ইত্যাদি ।
ইসলামি ব্যাংক যখন অন্যান্য ব্যাংকের মতই তাহলে কি আমরা অন্য ব্যাংকে ঝুঁকে যাবো ?? লেখক বলেছেন তা নয় বরং সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে এবং সুদ ছাড়াও ব্যাংক অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে যেমন – লকার সুবিধা, রেমিট্যান্স আদান- পদান ও মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম। এগুলো সুদের আওতায় পড়ে না বরং এগুলো থেকে সার্ভিস চার্জ নেয়া হয় ।
আরও বিস্তারিত জানতে হলে বইটি পড়ুন ।


আমার কিছু কথাঃ

আধুনিক যুগে মদ হয়ে গেছে soft drinks। সুদ হয়ে গেছে interest । বিশ্ব বানিজ্যের সব জায়গায় যখন সুদের আধিপত্য তখন সুদমুক্ত থাকি কীভাবে এই কথার দোহাই দিয়ে আমরা সুদকে ইসলামিকরন করার পায়তারা করলাম।


আসুন দেখি পবিত্র কুরআনে আল্লাহ কি বলেছেন
” হে ঈমানদারগন তোমরা আল্লাহক ভয় করো এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাকো। অতপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না করো, তবে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও ”


সুদ কত % খেলে হালাল তা আল্লাহ বলেন নি তাই অল্প হোক বেশি হোক আমাদের জন্য হারাম। ইসলামি ব্যাংকের উচিত তাদের অপারগতা স্বীকার করা । নামের সাথে ইসলাম যুক্ত দেখলেই আমরা আবেগে ঢলে পরি। আবেগ দিয়ে না ভেবে বিবেক দিয়ে সকলের ভাবা উচিত।


সমালোচনাঃ

বহুল আলোচিত এই বইটি লেখক ৯৫ পৃষ্ঠায় ইতি না টেনে আরও বিস্তারিত ভাবে সমাধানের পথটি বাতলে দিতে পারতেন । তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যেহেতু কম বেশি সকলের ব্যাংকে টাকা রাখার দরকার তাই একসাথে এক ব্যাংকে না রেখে ভিন্ন, ভিন্ন ব্যাংকে রাখা ভালো । যে ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভালো সেইসব ব্যাংকে রাখার কথা । স্বাস্থ্য ভালো বলতে মুনাফা নাকি গ্রহণযোগ্যতা আমার বোধগম্য নয় । তিনি মুরাবাহা ও বায়- মুয়াজ্জল কে শুধু বাহানা হিসেবে দেখিয়েছেন যা পুরোপুরি একমত নই।


শেষ কথাঃ

বুদ্ধিমানরা চিন্তা করে, বোকারা তর্ক করে । কারো সমালোচনা করতে হলেও জেনে নেওয়া উচিত কারো পোস্ট বা কারো কথার ভিত্তিতে অনুমান করে ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া সমীচীন নয় । মনে রাখবেন মুখ এমন এক বস্তু যা বলে ফেললে আপনি আর ভিতরে ঢোকাতে পারবেন না । এই মুখ দিয়ে যেহেতু আপনি অন্যের অন্তর কেড়ে নিতে পারেন তাহলে বিষবাক্য বলে কেন অন্যের অন্তর রক্তাক্ত করবেন। সমালোচনা করলেও মাধুর্যপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করুন ।


আলোচনা -সমালোচনা ছাপিয়ে বইটি উপকারী মনে হয়েছে তাই আসুন সকলে পড়ি এবং একসাথে সমাধানের পথ খুঁজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *