February 25, 2024

ইমান ও সাহসের গল্প – আমিমুল ইহসান

উলামায়ে কেরামগণ হলেন নবিদের ওয়ারিস। তারাই দ্বীনের ধারক ও বাহক। যুগে যুগে তারাই দ্বীনের বিশুদ্ধতা রক্ষায় সংগ্রাম করেছেন। যখনই দ্বীনে ইসলামে কোনো ধরনের বিকৃতি অনুপ্রবেশ করতে চেয়েছে তারা রুখে দাঁড়িয়েছেন। জীবনের মায়াকে তুচ্ছজ্ঞান করে শাসকগোষ্ঠীর সামনে দাঁড়িয়ে হকের আওয়াজ বুলন্দ করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল এই আলিমদের মাধ্যমে দ্বীনের হেফাজত করেছেন। তবে সময়ের আবর্তনে এমন এক শ্রেণির নামধারী আলিমেরও আবির্ভাব ঘটেছে যারা ইলমকে ব্যবহার করে রাজদরবারের নৈকট্য হাসিল করার প্রয়াস পেয়েছে। দুনিয়ার সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা ও বিত্ত-বৈভবের লোভে পড়ে শাসকদের শরিয়াহ-বিরোধী কাজের বৈধতা দিয়েছে। আবার অনেক নামধারী আলিম দ্বীনি ইলমকে বিক্রি করে দুনিয়া অর্জনের চেষ্টা করেছে।

শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন রহ. বড়ই উত্তম কথা বলেছেন :
‘‘প্রত্যেক আলমই অনুসরণীয় নয়। আলিমরা তিন শ্রেণির : এক উলামায়ে মিল্লাহ (মিল্লাতের আলিম), উলামায়ে দাওলাহ (রাষ্ট্রের আলিম), উলামায়ে উম্মাহ (জাতির আলিম)।

উলামায়ে মিল্লাহ হলো তারা যারা মিল্লাতে ইসলাম এবং আল্লাহর নাজিলকৃত শরিয়াহকে প্রাণপণে আঁকড়ে ধরে। এই ব্যাপারে দুনিয়াবি কোনো শক্তি বা স্বার্থের ধার ধারে না।

উলামায়ে দাওলাহ হলো, সেই সব আলিম যারা সবসময় শাসকগোষ্ঠীর মেজাজ-মর্জির প্রতি লক্ষ রাখে। তারা নফসের তাড়নায় মাসআলা বর্ণনা করে, কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে, যাতে শাসকগোষ্ঠীর খেয়াল-খুশির অনুক‚ল হয়। এরাই হলো চরম ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় উলামা।

আর উলামায়ে উম্মাহ জনগণের ঝোঁক ও প্রবণতার দিকে নজর রাখে। যদি তারা কোনো বস্তুকে বৈধ হিসেবে পেতে চায়, তাহলে তারাও সেই বস্তুটি বৈধ বলে ঘোষণা করে। আর যারা যদি সেটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষে থাকে, তারাও সেটিকে হারাম বলে ঘোষণা দেয়। তারা কুরআন-সুন্নাহ বক্তব্যকে এদিক ওদিক করে মানুষের খেয়াল-খুশির অনুগত বানায়।’’

প্রিয় পাঠক!
শতাব্দীর পথপরিক্রমায় উলামায়ে দাওলাহ ও উলামায়ে উম্মাহ পৃথিবীতে ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত হয়ে এসেছে। আর উলামায়ে মিল্লাহ যাঁরা তারা অমর হয়ে আছেন ইতিহাসের পাতায়। শতাব্দীর দেয়ালে সাঁটা তাঁদের কর্মগাথার রঙ্গিন পোস্টার। তাদের ত্যাগ, সাধনা ও কুরবানির বিনিময়ে আজ দেড় হাজার বছর পেরিয়ে পৃথিবীতে আলো ছড়াচ্ছে কুরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ বাণী। শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে, বাতিলের হাজারো ঝড়ঝাপ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করে যারা জ্বালিয়ে রেখেছেন দ্বীনের পিদিম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিম জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের এই ত্যাগ ও কুরবানিকে কবুল করুন। জান্নাতে তাদের মর্যাদাকে আরও উন্নত করুন।

প্রিয় পাঠক!
আপনার হাতের বইটি অধমের পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট হাদিয়া। আমাদের পূর্বসূরি আমাদের গৌরব আমাদের রাহবার কতিপয় সংগ্রামী উলামায়ে কেরামের সংগ্রামমুখর জীবনের একটি বিশেষ দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ছোট্ট পুস্তিকায়। সেই দিকটি হলো, জালিম শাসকদের ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান ও কর্মনীতি।

শীঘ্রই আসছে ইনশাআল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *