February 26, 2024

আমি তপু – ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

বইয়ের নাম : আমি তপু
লেখক : ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল
প্রচ্ছদ :ধ্রুব এষ
প্রকাশনা ঃ পার্ল প্রকাশনা
মূল্য : ২০০ টাকা(গায়ের মূল্য).

গল্পের নায়ক অারিফুল ইসালাম তপু। তেরো বছর বয়সে যার নিজেকে তেতাল্লিশ বছর বয়সের অভিজ্ঞতালব্ধ একজন ব্যক্তি মনে হয়েছে। তপুর সুন্দর, সুশৃঙ্খল, আদরমাখা জীবনের ইতি ঘটে তখনই যখন তপুর আব্বু তার জন্য ক্রিকেট ব্যাট কিনতে গিয়ে রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। তপুর আব্বুর মৃত্যুর পেছনে তপুর আম্মু তপুকে দায়ী করতে থাকে। হঠাৎ তপুর কাছে তার আম্মু হয়ে উঠে অচেনা,দুর্বোধ্য কেউ একজন। যিনি তার ছোট্ট আদরের সোনামণিকে এক মুহূর্তের জন্যেও সহ্য করতে পারে না। যার ফলশ্রুতিতে তপুর জীবন শুরু হয় স্টোররুমে,তপুকে খেতে দেওয়া হয় মোটা চালের ভাত আর ডাল। তপুর ছোট্ট প্রাণটি কষ্ট সহ্য করতে না পেরে কখনো আত্মহত্যা করতে চেয়েছে, আবার কখনো বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
তপুর জীবনকে নতুন করে আবিষ্কার করে তার ক্লাসমেট প্রিয়াংকা। প্রিয়াংকাকে বলা চলে গল্পের টুইস্ট। যার মিষ্টি মিষ্টি সাজানো কথাগুলো পড়ে আমি মনে মনে হেসেছি। ক্লাসের সবাই তপুকে এড়িয়ে চললেও প্রিয়াংকা তপুর দুঃখগুলো ভাগাভাগি করেছে আর নিজের বিক্ষিপ্ত আনন্দ বিচরণে তপুকে সঙ্গী করেছে। তপুর সাথে চলতে গিয়ে প্রিয়াংকা বুঝতে পারে অন্য বিষয়ে দূর্বল হলেও তপু গণিতে তুখোড়। তাইতো গণিত অলিম্পিয়াডে তপুর নাম পাঠানোর জন্য প্রিন্সিপাল ম্যাডামের কাছে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে গিয়ে যোগাযোগ করেছে অলিম্পিয়াড কমিটির সাথে। তপু গণিত অলিম্পিয়াডে সবাইকে চমকে দিয়ে ‘চ্যাম্পিয়নদের চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এর ফলে স্কুলে তপুর অবস্থান পরিবর্তন হলো এবং তার বন্ধুর অভাব থাকলো না। কিন্তু বাড়িতে তপুর অবস্থান রয়ে গেল অপরিবর্তিত। অংক করতে গিয়ে একদিন রাতে তপুর কলমের কালি ফুরিয়ে গেলে তার ভাইয়ার রুম থেকে কলম আনতে গেলে তপুর আম্মু তাকে চোর বলে আখ্যা দেয়। আম্মুর আঘাতের ফলে তপু যখন জ্বরে কাতরাচ্ছে তখন তার মনে একটাই বাসনা জেগেছে। তপু ভেবেছিল কেউ একজন এসে বলবে,’তপু, এখন কেমন লাগছে?’ কিন্তু কেউ তাকে বলে নি।

হঠাৎ তপু তার আম্মুর মাঝে পরিবর্তন দেখতে পেল।যেটা সে প্রথম টের পেল। তপু আর আগের মতো আম্মুর কথাবার্তা শুনতে পায় না,তার আম্মু আগের মতো হাসে না, টিভি দেখে না। হাসপাতালে নিয়ে গেলে দেখা গেল তপুর আম্মুর মাথায় বড় একটা টিউমার বাসা বেঁধেছে। ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। আম্মুর কাছে গেলে আম্মু রেগে যাবেন এই আশঙ্কায় তপু আম্মুর কাছে যায় নি। যখন তার সুযোগ মিললো তখন রাগ করার শক্তিটুকুও তার আম্মুর ছিলো না। তপু তার আম্মুর বুকে মাথা রেখে তার সাধারণ, সহজ কথাগুলো বললো। তপু বললো, কীভাবে সে তার আম্মুর ছোট বেলার আদরগুলোর কথা মনে করে প্রেরণা পেত আর দুঃখ ভুলে যেত। আম্মু তপুকে বুকে জড়িয়ে ধরে মারা গেল। প্রিয়াংকা যখন তপুকে দেখলো তখন তপুর মুখে হাসি আর চোখে জল ছিল। হাসির কারণ তপুর অন্য সহপাঠীরা না বুঝলেও প্রিয়াংকা বুঝতে পারলো।

‘আমি তপু’ নিঃসঙ্গ এক কিশোরের বেঁচে থাকার ইতিহাস। নিষ্ঠুরতার ইতিহাস আর ভালোবাসার ইতিহাস”

রিভিউয়ার ঃ মোহাম্মদ লাভলু মিয়া
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (২০১৯-২০২০)
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

Happy reading 😍

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *