February 21, 2024

আমি খুব ক্লান্ত – জহির বিন আইয়ুব

আমি খুব ক্লান্ত (১)
✑জহির বিন আইয়ুব

“আমাকে একটু শান্তি দাও,আমি খুব ক্লান্ত “।
গলার সর্বোচ্চ শক্তিটুকু দিয়ে বলার চেষ্টা করছে ফরহাদ।
কিন্তু কারও কানে যেনো ঢুকছে না তার আওয়াজ।
ঢুকবেই বা কি করে?? তাদের গলার জোর যে ফরহাদের চেয়েও অনেক বেশি।
সবাই একসাথে চিৎকার করছে। সবাই একসাথে বলছেঃ-
“…………………………………….”
এত জন লোকের একসাথে করা চিৎকারের কারণে কে কি বলছে কিছুই ঠিক বুঝা যাচ্ছে না।
হঠাৎ আওয়াজ থেমে গেলো।নিস্তব্ধ নির্বাক হয়ে গেলো সবাই।
যেনো সবাই বোবা।দুয়েক লমহা পর।আবার সবাই চিৎকার দিয়ে উঠলো একসাথে….।

বিরাট ব্যবসায়ী বাবার একমাত্র ছেলে ফরহাদ। বড় বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে বড় বড় জায়গায়।তাই একমাত্র উত্তরাধিকার বলতে এখন ফরহাদ।
বাবার অঢেল সম্পদ আর মায়ের শাসন হীন আহ্লাদে বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে দিন দিন ছেলেটা।
এলাকার অনেকের মুখেই এমন অভিযোগ শোনা যায় প্রায়ই।
কিন্তু কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই সে দিকে। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত।
বোনদের সাথেও তেমন যোগাযোগ নেই ফরহাদ বা ওর বাবা-মার।
ফোন করে খোঁজ নেওয়ার সময়টুকুও কারও নেই।

এই তো মাস পাঁচেক আগের কথা। বিজনেসের প্রয়োজনে ফরহাদের বাবা জাপান গেলো।ওদিকে ফরহাদের ছোট বোন প্রেগন্যান্ট। তাই ফরহাদের মাকে যেতে হলো মেয়ের বাড়ি।রইলো শুধু ফরহাদ।

সেই সুযোগে এলাকার বখাটে ছেলেদের পাল্লায় পড়ে ফরহাদ এখন বখাটেদের গুরু।
সিগারেট থেকে আগে বেড়ে এখন তার ঠোঁট ছোঁয় মদের বোতল।
অবিবাহিতা মেয়েদের সাথে সাথে ফরহাদ গ্যাং এখন বিবাহিতা মেয়েদেরকেও ইভটিজিংএ ছাড় দেয় না।

একদিনের ঘটনাঃ-
ফরহাদরা চার-পাঁচজন বন্ধু একসাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো নদীর পাড়ে একটা ট্রলারের উপর।
ওদের ধৈর্যের প্রশংসা করতে হবে। এই কাঠফাটা রোদের মধ্যে ওরা বসে আছে। নদীর পাড়ে। আবার ট্রলারের উপর। একেকটার চেহারা রোদের তাপে আগুন হয়ে আছে।
এমন সময় নৌকার দিকে আসতে দেখা আপাদমস্তক কালো কাপড়ে আবৃত দু’টো মানবীকে।মেয়ে না মহিলা ঠিক বুঝার উপায় নেই।
তবে হাঁটার ধরন দেখে কিছুটা অনুমান অবশ্য করা যায়। কুড়ি বছরের বেশি বয়স হবে ওদের মনে হয় না।তার মানে মহিলা না, বরং দু’জনই তরুণী।
ওরা নৌকায় উঠতে যাবে এমন সময় ট্রলার থেকে নেমে ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো ফরহাদ। চেয়েছিলো নামটা জিজ্ঞেস করেই ছেড়ে দেবে ওদেরকে।
কিন্তু কি হলো কিছুই বোঝা গেলো না।
হঠাৎ বিকট একটা শব্দ।
কেঁপে উঠলো আকাশ বাতাস।
ধুক,,,করে উঠলো সবার বুক।
কারও পায়ের তলায় মাটি নেই যেনো।
কারও মুখেও কোনও শব্দ নেই।
মনে হয় সময় যেনো থেমে গেছে কিছুক্ষণের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *