March 1, 2024

আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রা. লেখক : ড. আলী মুহাম্মদ আস-সাল্লাবী

  • আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রা.
  • লেখক : ড. আলী মুহাম্মদ আস-সাল্লাবী
  • প্রকাশনী : কালান্তর প্রকাশনী
  • বিষয় : ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ইসলামী ব্যক্তিত্ব, ইসলামি ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  • অনুবাদক : আবু আব্দুল্লাহ আহমদ, মহিউদ্দিন কাসেমী
  • সম্পাদক : সালমান মোহাম্মদ
  • পৃষ্ঠা : 272, কভার : হার্ড কভার
  • আইএসবিএন : 9789849671299, ভাষা : বাংলা

খিলাফতে রাশিদার পর ইসলামি সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিয়েছে বনু উমাইয়ারা। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি ‘উমাইয়া খিলাফতের ইতিহাস’ সিরিজের দ্বিতীয় খণ্ড। এই খণ্ডে উমাইয়াদের দ্বিতীয় খলিফা ইয়াজিদের পরিচিতি ও তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। কারবালার মর্মান্তিক যুদ্ধ, হুসাইন রা.-এর শাহাদাত, ইয়াজিদকে অভিসম্পাত করা যাবে কি যাবে না, গ্রন্থটিতে এর সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যাবে।

হাররার যুদ্ধ, হাররা-পরবর্তী মদিনায় উমাইয়াদের লুটতরাজ, ইবনু জুবায়েরের সঙ্গে ইয়াজিদবাহিনীর যুদ্ধ, পবিত্র কাবায় অগ্নিকাণ্ড, ইয়াজিদের হঠাৎ মৃত্যু, ইয়াজিদের পরে মুআবিয়া ইবনু ইয়াজিদের খিলাফতলাভ, তাঁর পদত্যাগ ইত্যাদিও সবিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রা. গ্রন্থে স্থান পেয়েছে আমিরুল মুমিনিন আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়েরের জীবনবৃত্তান্ত, পিতা-মাতা ও স্ত্রী-সন্তানদের পরিচয়, তাঁর জ্ঞান, সাহসিকতা ইত্যাদির আলোচনা। তুলে ধরা হয়েছে ইবনু জুবায়ের কর্তৃক ইয়াজিদের বায়আত প্রত্যাখ্যান, মক্কাকে আন্দোলনের কেন্দ্র নির্বাচন এবং তাঁর বিদ্রোহের কারণসমূহ।
ইবনু জুবায়েরের হাতে মুসলিমবিশ্বের বায়আত, মারওয়ান ইবনুল হাকামের বিদ্রোহ, মারওয়ানের মৃত্যু এবং তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের খিলাফতের মসনদে আরোহণের ইতিবৃত্তও তুলে ধরা হয়েছে। সব শেষে তুলে ধরা হয়েছে ইবনু জুবায়েরের অবরুদ্ধ হওয়া ও তাঁর শাহাদাতের বিবরণ, তাঁর খিলাফতের সমাপ্তির উপাখ্যান ও পতনের কারণসমূহ।

আলহামদুল্লিাহ, ‘উমাইয়া খিলাফতের ইতিহাস’ সিরিজের দ্বিতীয় বই আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রা. গ্রন্থটি আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। কাজটি দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছিল। নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে আজ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ আপনাদের হাতে।
মোট পাঁচ খণ্ডে সিরিজটি আমরা প্রকাশ করেছি। প্রতিটি খণ্ডের নামও ভিন্ন ভিন্ন রেখেছি এবং আলোচনাও সংশ্লিষ্ট খলিফার রেখেছি, যাতে পাঠক চাইলে যেকোনো খণ্ড আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে পারেন। তবে এই খণ্ডে একাধিক খলিফা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আলোচনা স্থান পেয়েছে।
গ্রন্থটির মূল ভূমিকা পরেই ‘উমাইয়া রাজবংশের ঐতিহাসিক শিকড়’ নামে দীর্ঘ আরেকটি ভূমিকা আছে। এটা পড়লে পাঠক উমাইয়াদের পরিচিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। যদিও এটি এই সিরিজের প্রথম বই মুআবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান রা. গ্রন্থটির শুরুতে দেওয়া উচিত ছিল; কিন্তু অসাবধানতাবশত না দেওয়ায় এটা এখানে রেখেছি, যাতে পুরো বইয়ের কোনোকিছু বাদ না পড়ে।
মুআবিয়া রা.-এর পর খলিফা হন ইয়াজিদ ইবনু মুআবিয়া। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে তাঁর জীবনীর ওপর দীর্ঘ আলোচনা স্থান পেয়েছে। এরপর খলিফা হন মুআবিয়া ইবনু ইয়াজিদ। লেখক ধারাবাহিকভাবে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। এরপর খলিফা হন আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রা.। গ্রন্থটিতে তাঁর আলোচনা সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে। এরপর স্থান পেয়েছে মারওয়ান ইবনুল হাকামের আলোচনা। এ ছাড়া নবিদৌহিত্র হুসাইন ইবনু আলি রা.-সহ সংশ্লিষ্ট অনেকের আলোচনাও স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটির লেখক ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রা.-এর জীবনীকে আলাদা গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তাই আমরাও বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের নাম আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রেখেছি। তবে এতে ইয়াজিদ ইবনু মুআবিয়াসহ আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের আগ পর্যন্ত সব খলিফার জীবনী ধারাবাহিকভাবে রেখেছি।
উমাইয়া খিলাফতের ইতিহাস সিরিজের খণ্ডগুলোর নাম :
১. মুআবিয়া ইবনু আবি সুফিয়ান।
২. আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের রা.।
৩. আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান ।
৪. উমর ইবনু আবদুল আজিজ রাহ.।
৫. উমাইয়া খিলাফতের পতন ও আব্বাসিদের উত্থান।
গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ও মহিউদ্দিন কাসেমী। তাঁরা দুজনই যোগ্য ও দক্ষ অনুবাদক। আল্লাহ তাঁদের কাজে বরকত দিন। ভূমিকা থেকে নিয়ে আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়েরের আগ পর্যন্ত অনুবাদ করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমদ। আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়ের অধ্যায় অনুবাদ করেছেন মহিউদ্দিন কাসেমী।
সম্পাদনা করেছেন সালমান মোহাম্মদ। সহকারী সম্পাদক ছিলেন মুতিউল মুরসালিন। সহযোগিতা নিয়েছি আবদুল্লাহ আরাফাতেরও। সবার শেষে আমি নিজে আদ্যোপান্ত গুরুত্বসহকারে পড়েছি।
আমাদের প্রতিটি কাজের মতো এটাতেও আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজন করা হয়েছে। অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, শিরোনাম-উপশিরোনাম ইত্যাদি বিন্যাস করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান ও ইবনু জুবায়েরের সঙ্গে তাঁর সংঘাত’ শিরোনামের পরিচ্ছেদটি অধিক প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করে আমরা আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান খণ্ডে সংযুক্ত করে দিয়েছি। যদিও পরিচ্ছেদটি আবদুল্লাহ ইবনু জুবায়েরের আলোচনার সঙ্গেও প্রাসঙ্গিক। আর একই আলোচনা একাধিক খণ্ডে হুবহু থাকা পাঠকের জন্য নিশ্চয় বিরক্তিকর হবে; আবার বইয়ের কলেবরও বেড়ে যাবে; এ বিষয়টিও এখানে আমরা বিবেচনায় নিয়েছি।
আমি আবারও মহান রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করছি। কাজের সঙ্গে জড়িত সবার কল্যাণ কামনা করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে উপযুক্ত বদলা দান করুন।
আমাদের কাজে কোনো ভুলত্রুটি নজরে পড়লে অবগত করবেন, ইনশাআল্লাহ আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে সংশোধন করব।
আবুল কালাম আজাদ
প্রকাশক
কালান্তর প্রকাশনী
১ জুন 2022

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *